প্রখ্যাত সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা জন পিলজার মারা গেছেন
প্রখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক এবং প্রামাণ্য তথ্যচিত্র নির্মাতা জন পিলজার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
সামাজিক মাধ্যম 'এক্স' (সাবেক টুইটার)- এ এক বিবৃতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার (৩০ ডিসেম্বর), ২০২৩ লন্ডনে মারা গেছেন জন। বিবৃতিতে তাঁকে একজন অসাধারণ 'বাবা, নানা ও সঙ্গী' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কম্বোডিয়ায় পল পটের শাসনের পরিণতি নিয়ে করা তাঁর কাজের জন্য পিলজার সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন পশ্চিমা পররাষ্ট্রনীতিরও কট্টর সমালোচক। যুদ্ধ সাংবাদিকতাতেও নাম করেছিলেন।
কর্মজীবনে যুক্ত ছিলেন— ডেইলি মিরর, আইটিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইন অ্যাকশন এবং বার্তাসংস্থা রয়টার্সসহ খ্যাতনামা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাথে।
পিলজার ১৯৬৯ সালে আইটিভির গ্রানাডা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড ইন অ্যাকশন' দিয়ে তার টিভি ক্যারিয়ার শুরু করেন।
তার প্রথম প্রামাণ্যচিত্রের নাম ছিল 'দ্য কোয়াইট মিউটিনি', যেটিতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈনিকদের চারিত্রিক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে সৈনিকদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়া এবং তার ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যুদ্ধকালীন মনোবল কতোটা হ্রাস পেয়েছিল– এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
কর্মজীবনে তিনি ৫০টিরও বেশি আলোচিত ডকুমেন্টারি বা তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন।
পিলজার ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে আরও বেশকিছু তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যার মধ্যে অন্যতম 'স্টিল আমেরিকা'স ওয়্যার' এবং 'ডু ইউ রিমেম্বার ভিয়েতনাম?'
১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে, কম্বোডিয়ায় পল পটের শাসনের পতন ঘটলে তিনি সেখানে যান এবং কম্বোডিয়ান গণহত্যার পরিণাম নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা শুরু করেন।
তার আইটিভি তথ্যচিত্র 'ইয়ার জিরো: দ্য সাইলেন্ট ডেথ অফ কম্বোডিয়া' বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়, যা কম্বোডিয়ার দুর্গত মানুষকে সহায়তার জন্য এক কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থসাহায্য তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
১৯৯০ সালের আইটিভি'র জন্য নির্মাণ করা ডকুমেন্টারি 'কম্বোডিয়া: দ্য বিট্রেয়াল' এর জন্য পিলজার ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অফ টেলিভিশন আর্টস এন্ড সাইন্সেস পুরস্কার জিতেন।
গর্ভাবস্থায় থ্যালিডোমাইড সেবনের কারণে যে সকল মায়ের সন্তান ত্রুটি নিয়ে জন্মেছিল, তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে আইটিভির জন্য নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র 'থ্যালিডোমাইড: দ্য নাইনটি-এইট উই ফরগট'।
আইটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন লাইগো তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বলেন, "জন ছিলেন প্রচারণামূলক সাংবাদিকতার একজন বড় ব্যক্তিত্ব। তাঁর সম্পাদকীয় স্বর ছিল- পরিষ্কার ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, যার মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে তিনি তার কর্মজীবনে অসাধারণ ছাপ রেখে গেছেন। তার তথ্যচিত্রগুলো ছিল আকর্ষণীয়, প্রচলিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জকারী এবং দেখার মত। ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে স্রোতে গা না ভাসিয়ে তিনি সেই সকল সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন, যেগুলো প্রতিবাদী ও ভিন্নতার কথা বলে এবং ভিন্নমতকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়।"
তিনি আরও বলেন, "জনের কাজ দর্শকদের ভাবনার এবং মত প্রকাশের খোঁড়াক দিতো– যা মূলধারার টেলিভিশনে সচরাচর দেখা যায় না। এটি এমনই এক অবদান যা ব্রিটিশ টেলিভিশনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আমরা এই দুঃসময়ে জনের পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানাই।"
অন্যরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিলজারকে এবং তাঁর কর্মময় জীবনকে স্মরণ করেছেন।
চ্যানেল ৪ এর প্রাক্তন সংবাদ পাঠক জন স্নো এর বর্ণনায় পিলজার ছিলেন "মহৎ এবং অবিচল একজন সাংবাদিক"। পিয়ার্স মরগান বলেন, "তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী সাংবাদিক এবং উগ্র ক্ষমতাসীনদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক।"
