জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে বিপুল ভোট
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাশ হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) প্রস্তাবটির পক্ষে ১৫৩ টি দেশ ভোট দিয়েছে।
অন্যদিকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ১০ টি দেশ। যার মধ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম।
যদিও রেজুলেশনটি মানার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এটি বিশ্বব্যাপী গাজার সমর্থনে একটি নির্দেশক হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এ সম্পর্কে ভোটের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুলাজিজ আলওয়াসিল বলেন, "আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে করা এই খসড়া রেজুলেশনটি সমর্থন করেছে। এটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে গৃহীত হয়েছে। একইসাথে এটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পক্ষে আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করেছে।"
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
একইসাথে গাজা উপত্যকার প্রায় ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় ৮০ ভাগই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন।
তেল আবিব গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এতটা নির্মমভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে যে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এটিকে 'পৃথিবীর মধ্যে জাহান্নাম' বলে অভিহিত করেছেন। একইসাথে উপত্যকাটিতে খাদ্য, জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুতের প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে সীমিত করেছে দেশটি।
এদিকে গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একইভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি রেজুলেশন আনা হয়েছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর ফলে সেটি ব্যর্থ হয়।
তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওসামা আবদেলখালেক খসড়া প্রস্তাবটিকে 'ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ' বলে অভিহিত করেছেন। একইসাথে এটিতে উভয় পক্ষের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সমস্ত বন্দীদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে বলে অভিহিত করেছেন।
আর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান যুদ্ধবিরতির আহ্বানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রেজুলেশনটিকে মানবতার উপর 'নৈতিক কলঙ্ক' বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘকে উদ্দেশ্য করে গিলাদ এরদান বলেন, "কেন আপনি ধর্ষক ও শিশু হত্যাকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন না? যেখানে সময় এসেছে হামাস দানবদের দোষী সাব্যস্ত করার।"
যদিও প্রথম থেকেই মার্কিন প্রশাসন দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে আসছে। কেননা তেল আবিবের সাথে সুর মিলিয়ে তারাও মনে করে যে, হামাসকে নির্মূল করা উচিত।
কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী সম্প্রতি গাজার স্কুল ও হাসপাতালসহ বেসামরিক নানা স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও যেন আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়ছে।
