গাজার প্রধান হাসপাতালে ৪ দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে, সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই হাজার
গাজা শহরের প্রধান হাসপাতালের জেনারেটর চালানোর জন্য আর মাত্র চারদিনের জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে। খবর বিবিসির।
ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের ৬ষ্ঠ দিনে আজও গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বন্ধ আছে গাজার একমাত্র পাওয়ার প্ল্যান্ট।
গাজায় এ পর্যন্ত ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ৫,৬০০ জন।
ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩০০তে। ইসরায়েলের ব্রডকাস্টিং অথরিটি বলছে, এখন পর্যন্ত আহত হয়েছে প্রায় ৩,৩০০ জন।
এদিকে, ফুরিয়ে যাচ্ছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানিও।
মর্গে পরিণত হতে পারে গাজার হাসপাতালগুলো: রেড ক্রস
বিদ্যুৎ না থাকায় গাজার হাসপাতালগুলো মর্গে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি)।
গাজার বেশিরভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় ইসরায়েল থেকে। হামাসের হামলার বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
মধ্যপ্রাচ্যে আইসিআরসি'র আঞ্চলিক পরিচালক ফ্যাব্রিজিও কার্বোনি বলেছেন, "এর ফলে যে মানবিক দুর্দশা সৃষ্টি হয়েছে তা ভয়াবহ। বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি," বলেন তিনি।
"গাজার হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় নবজাতকদের ইনকিউবেটর, বয়স্ক রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ, কিডনি ডায়ালাইসিস, এক্স-রে সবই বন্ধ হয়ে গেছে," বলেন তিনি।
হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া ইসরায়েলিদের নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাসকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো হামাস নির্মিত বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হামাস গাজা সিটি থেকে খান ইউনিস এবং রাফা পর্যন্ত একটি টানেল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
কনরিকাস বলেন, গাজা উপত্যাকাকে ভাবতে হবে দুই স্তর বিশিষ্ট হিসেবে। একটি স্তর ভূমিতে থাকা বেসামরিকদের জন্য এবং দ্বিতীয়টি হামাসের ভূগর্ভস্থ স্তর।
'আমরা এখন যা করার চেষ্টা করছি তা হলো হামাসের তৈরি দ্বিতীয় স্তরে পৌঁছানো', যোগ করেন তিনি।
