গুগলের ১২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত
করোনা পরবর্তী সময়ে টুইটার ও মাইক্রোসফটের মত বিশ্ববিখ্যাত সংস্থার পর এবার কর্মী ছাঁটাইয়ে নেমেছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট। একসঙ্গে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চাকরিচ্যুত কর্মীদের মানসিক জোর বাড়ানোর জন্য তাঁদের আলাদা করে মেইল করেছেন কোম্পানিটির সিইও। একইসাথে এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি।
ছাঁটাইয়ের চিঠিতে গুগল সংস্থার কর্মীদের 'গুগলার' বলে সম্বোধন করে মেইল করছেন সুন্দর। চিঠিতে তিনি বলেন ''আপনাদের সকলকে আমার একটি খারাপ খবর দেওয়ার আছে। গুগল থেকে ১২ হাজার কর্মীকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এর জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি জানি, এই সময়টা কতটা কঠিন।"
তবে ছাঁটাইকৃত কর্মীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ভোলেননি কোম্পানিটির সিইও। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, "এত দিন সকলের প্রচেষ্টায় আমাদের কোম্পানি সাফল্যের পথে হেঁটেছে। সকলের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। এই সিদ্ধান্তের দায় সম্পূর্ণ রূপে আমার। গত দু' বছরে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের প্রতি আমাদের বিনিয়োগ, উৎপাদনের ক্ষেত্রে মান এবং সঠিক পরিষেবা বজায় রেখে চলেছি।"
তবে ছাঁটাইকৃত এ কর্মীদের তাৎক্ষণিক চাকরি ছেড়ে দিতে হবেনা। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশের পর অন্য চাকরি খুঁজতে প্রায় দু'মাস সময় দেওয়া হবে। এই দুইমাস তাঁরা গুগলেই কর্মরত অবস্থায় থাকতে পারবেন।
এছাড়াও গুগলের পক্ষ থেকে ছাঁটাইকৃত কর্মীদের ৬ মাসের স্বাস্থ্য পরিষেবা সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী চাকরি সূত্রে যদি চাকরিচ্যুত কর্মীদের অন্য দেশে যেতে হয়, তবে গুগলের পক্ষ থেকে তার দায়িত্বও নেওয়া হবে।
গত বছরের অক্টোবরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গুগলের আয় বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছালেও তা আগের বছরের তুলনায় কম। আর তখন থেকেই কোম্পানিটির পলিসিতে কড়াকড়ি আনার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন সিইও সুন্দর পিচাই। প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রকল্পগুলিতে বাড়তি ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের সংখ্যা কম থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন গুগল প্রধান।
গুগলের ছাঁটাইকৃত এ ১২ হাজার কর্মী কোম্পানিটির মোট কর্মী সংখ্যার ৬ শতাংশ। প্রথমদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের মাধ্যমে এ ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হলেও ধীরে ধীরে অন্য দেশে থাকা কর্মীদের ঐ দেশের নিয়মকানুনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ছাঁটাই করা হবে। একইসাথে বর্তমানে কোম্পানিটি নিজেদের ব্যয়ের কাঠামোকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
গত বছরের নভেম্বরে প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন কোম্পানি মেটা। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১১ হাজার কর্মী হ্রাস করে। এর কিছুদিন পরেই চলতি বছরের শুরুতে ১৭ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় আরেক টেক জায়ান্ট আমাজন। এছাড়াও সম্প্রতি প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। আর সর্বশেষ গুগলের প্রায় ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের এ ঘোষণা আগামীতে পরিবর্তিত বিশ্বের কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসছে।
সূত্র: আনন্দ বাজার
