চামড়া রপ্তানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে নিতে চলতি জুলাই মাসেই রোডম্যাপ নেবে সরকার: শিল্পমন্ত্রী
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চলতি জুলাই মাসেই একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণ করবে সরকার।
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পকে পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সাভার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।
তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিইটিপির বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় তা পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার এবং পরে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করার জন্য পৃথক নকশা ও ডিজাইনও প্রস্তুত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমাতে ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫টি বড় ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে মূল্যসংযোজিত শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী প্রোটিন পাউডার উৎপাদন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো ও জৈব সার এবং কাঁচা কাটিং বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন ও রপ্তানির কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পেতে ট্যানারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি জুলাইয়ে সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব খাতে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি হবে।
