খাগড়াছড়িতে বিক্রির জন্য আনা মহাবিপন্ন পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ উদ্ধার
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিক্রির জন্য আনা একটি মহাবিপন্ন পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বোয়ালখালী বাজারের জাফর স্টোর এলাকা থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের (ডব্লিউসিসিইউ) পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, 'কচ্ছপটি মহাবিপন্ন একটি প্রজাতির। এটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কোয়ারান্টাইন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে এটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।'
জানা যায়, বিক্রির জন্য বোয়ালখালী বাজারের জাফর স্টোর এলাকায় আনা হয় কচ্ছপটিকে। স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর নজরে বিষয়টি এলে তারা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে বন বিভাগের মেরুং রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি পরিত্যক্ত মাছের ড্রামের ভেতর থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিক্রেতা জানান, প্রাণীটি যে মহাবিপন্ন প্রজাতির, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না।
না বুঝেই এটি ধরে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় বাজারগুলোতে এখনও মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণী বিক্রির জন্য আনার ঘটনা ঘটছে।
এ ধরনের অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে নজরদারি জোরদার, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ বাংলাদেশের পার্বত্য বনাঞ্চলসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে এ প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন তাদের লাল তালিকায় পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপকে মহাবিপন্ন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের কারণে প্রজাতিটি বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
