আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সঙ্গে করিডোরে আগ্রহ চীনের
বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে 'বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর' (বিসিএমইসি) নির্মাণে চীন অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক এবং সংযোগ-কেন্দ্রিক প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
গত ২২-২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকার চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, 'বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রস্তাবিত করিডোর এগিয়ে নিতে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে অন্য কোনো আগ্রহী দেশের জন্য এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।'
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'অর্থনৈতিক করিডোরের এই ধারণাটি নতুন নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে চীন 'বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার' অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব করেছিল এবং এতে কিছু অগ্রগতিও হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে উদ্যোগটি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।'
ইয়াও ওয়েন বলেন, 'আমি যেমনটা উল্লেখ করেছি, এই করিডোরের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। আমরা প্রায় ১৫ বছর আগে এই অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব করেছিলাম এবং কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছিলা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে চীন যে ফলাফল আশা করেছিল, তা অর্জিত হয়নি। এখন বাংলাদেশ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ চায়, চীনও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ চায় এবং আমি বিশ্বাস করি, মিয়ানমারও এই ধরনের সহযোগিতা চায়। তাহলে আমাদের তিনটি দেশের যা আছে এখন আমরা তা নিয়েই কেন শুরু করতে পারি না? এই সহযোগিতা এখানেই শেষ নয়। অন্য দেশগুলো যদি যোগ দিতে চায়, তবে আমরা উন্মুক্ত এবং তাদের স্বাগত জানাই। তারা কি অংশ নেবে নাকি 'অপেক্ষা করো এবং দেখ' নীতি অবলম্বন করবে, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের। তবে এই অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চীন বদ্ধপরিকর।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'প্রস্তাবিত এই করিডোরের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সমগ্র অঞ্চলে সংযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।'
ভবিষ্যতে ভারতের মতো দেশগুলো এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াও বলেন, 'প্রকল্পটি অন্য দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং এতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।'
বাংলাদেশ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতার আরও ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, 'আমি যেমনটা বলেছি, জিডিআই সমঝোতা স্মারক নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আমরা আনন্দিত যে এটি এখন স্বাক্ষরিত হবে। জিডিআই চীন এবং অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সাধারণ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত। ইতোমধ্যে ১৯০টিরও বেশি দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন জিডিআই পরিবারের অংশ হওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং আমি বিশ্বাস করি এটি উন্নয়ন বিষয়ে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার আরও বড় একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে।'
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে বর্ণনা করে ইয়াও বলেন, 'এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।'
সফরের ফলাফল তুলে ধরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'এটি একটি সম্পূর্ণ সফল সফর। এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি মাইলফলক, যা একটি নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে।'
