বাজেটে নির্ঝরের মতো স্বপ্ন দেখলেও পরে সারা বছর স্বপ্নভঙ্গের ফল ভোগ করতে হয়: রুমিন
প্রতি বছর বাজেট দেওয়ার সময় 'নির্ঝরের মতো' স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে সেই স্বপ্নভঙ্গের কঠিন ফল ভোগ করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, "প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তবে শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জিত হয় না। এতে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "ওই সফরে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না—সে বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।"
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'আমরা কি কেবলমাত্র চাইতে গেছি, ভিক্ষার ঝুলি হাতে?' তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।"
দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমানে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।
