পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলা উপকৃত হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। এতে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সুফল ভোগ করবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা এর আওতায় আসবে। আর সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পর ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা এ প্রকল্পের সুফল পাবে।
তিনি বলেন, পানিসম্পদ খাতে সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো ফারাক্কা বাঁধ, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ। ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকারের কারিগরি কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগও এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলার কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। মাত্র চার মাসে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা এবং খালকাটা কর্মসূচি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ শিক্ষার প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
আলোচনায় তিনি পঞ্চগড়কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পঞ্চগড় বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দেবীগঞ্জে একটি এগ্রো জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের স্বার্থে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
