রবীন্দ্রনাথের কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে: চিফ হুইপ
রবীন্দ্রনাথের কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়েই বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
আজ শনিবার (৯ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
চিফ হুইপ বলেন, 'বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাদের প্রেরণার উৎস। তার কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জনগণ বিগত ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে।'
রবীন্দ্রনাথের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা। বাংলাদেশের জনগণ অনেক কঠিন লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তারা কঠিনকে ভালোবেসেছিল। এই দীর্ঘ সংগ্রাম জনগণকে বঞ্চিত করেনি। তারা একটি নতুন সকালের দেখা পেয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে এবং কঠিন সত্যকে ধারণ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে। যারা গত ১৭-১৯ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারাও এই সত্য ও কঠিনকে ভালোবেসে শক্তি সঞ্চয় করেছে।'
চিফ হুইপ বলেন, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলতে হয়, তিনি সমসাময়িক সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রগামী চিন্তা করতেন। তার "ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা" কবিতার সেই আবেগ আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। যখনই আমাদের সমাজে স্থবিরতা বা অচলায়তন তৈরি হয়, তখনই এই নবীনেরা সমাজকে জাগিয়ে তোলে এবং রক্ষা করে। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান ছিল আমাদের প্রেরণার উৎস।'
মো. নূরুল ইসলাম বলেন, 'রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে তিনি বিচরণ করেননি। তিনি একাধারে কবি, সুরকার, অভিনেতা ও ঔপন্যাসিক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সংগীতজগতকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের একটি আলাদা মাদকতা আছে, যা আমাদের সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং বাংলা ভাষার বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমার প্রত্যাশা, তারা রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে এবং এই বাংলাদেশকে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার দিক থেকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলবে। হুমায়ূন আহমেদের মতো বড় মাপের সাহিত্যিক বা বিখ্যাত কবিরা চলে যাওয়ার পর আমরা তেমন কাউকে তৈরি করতে পারিনি। সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যেখানে নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। আমরা এখন অনেক অপসংস্কৃতি এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করছি। আমাদের উচিত নিজস্ব সত্তায় ফিরে আসা এবং এমন একটি সমাজ গড়া, যেখানে মাদক, অপশক্তি এবং স্বৈরাচার থাকবে না। মানুষ সেখানে সুন্দর জীবনযাপন করবে এবং একটি নতুন সূর্যের আলোয় আমরা আলোকিত হব।'
অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
