কালবৈশাখীর তাণ্ডব: কুমিল্লায় ৩,০০০ হেক্টরে ফসলের ক্ষতি, বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লার কৃষিখাত। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত জেলার ১৭টি উপজেলাজুড়ে এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল। বিদ্যুতের তারে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, অনেক জায়গায় খুঁটি উপরে পড়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সারাদিনেও বৃষ্টিপাত ও ঝড় অব্যাহত আছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন কৃষিবিদরা।
তাঁরা জানান, কুমিল্লা জেলার ১,৭৩৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৫৫০ হেক্টর ভুট্টা, ২৩৫ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা এবং ৩৬৪ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, "কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় কমবেশি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে লাকসাম, দাউদকান্দি, নাঙলকোট, দেবীদ্বার ও মুরাদনগরে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।"
এ মুহূর্তে তিনি লাকসাম পরিদর্শনে আছেন উল্লেখ করে মিজানুর রহমান জানান, "জেলা ও উপজেলার সব কৃষি কর্মকর্তা এখন মাঠ পরিদর্শনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমি নিজেও মাঠ পরিদর্শনে। আমরা ক্ষতি নিরূপণে ও ক্ষতি কমিয়ে আনতে কাজ করছি।"
এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রোববার বিকেল থেকেই জেলার অসংখ্য স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঝড়ো বাতাসে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর, ছিঁড়ে যায় শত শত সংযোগ তার। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কাশিপুরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান কাউসার বলেন, "প্রায় ৭০ ঘণ্টা ধরে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। ২০২৪ সালের বন্যাতেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। আমাদের পুরোনো হারিকেন ছিল। বাজার থেকে কেরোসিন এনে হারিকেন জ্বালাচ্ছি।"
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির বলেন, "পিডিবির অধীনস্থ এলাকার বেশিরভাগ স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে জানি না। পিডিবির সংযোগ ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম ক্ষতি হয়েছে।"
