হত্যা মামলায় অভিনেতা ইরেশ যাকেরসহ দুইজনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মিরপুরে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ হত্যা মামলায় অভিনেতা ইরেশ যাকের এবং ফোরথট পিআর–এর (এশিয়াটিক গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকরাম মঈন চৌধুরীকে অব্যাহতির সুপারিশ করে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন গত ৯ অক্টোবর এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমত, ইরেশ যাকের ও ইকরাম মঈন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন- এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, ওই সময় ওই স্থানে তাদের উপস্থিতির স্থিরচিত্র বা ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়নি। তৃতীয়ত, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিলেন- এমন কোনো দালিলিক বা তথ্যবহুল প্রমাণও মেলেনি।
এ অবস্থায়, তদন্ত কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রামাণ্য ও বাস্তবভিত্তিক নতুন কোনো তথ্য বা সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রজনতার একটি মিছিল মিরপুর শপিং কমপ্লেক্স ও মিরপুর মডেল থানার মধ্যবর্তী রাস্তা দিয়ে স্লোগান দিতে দিতে অগ্রসর হচ্ছিল। সে সময় আসামিদের নির্দেশে তাদের দলীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়।
তারা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, রাইফেল, শটগান ও পিস্তলের গুলি ছোড়ে এবং ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাহফুজ আলম শ্রাবণ আহত হন। পরে তাকে রিকশায় করে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তফিজুর রহমান বাপ্পী গত ২৭ মার্চ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি মিরপুর মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪০৭ জনকে আসামি করা হয়।
