বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকা পেরিয়েছে, কাঁচামরিচের কেজি ঠেকেছে ২৪০ টাকায়
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ঢাকার কাঁচাবাজারে। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা পেরিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ, ২৪০ টাকায়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধু পেঁপে ৪০ টাকা, দুই-একটি সবজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাকি সব সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে।
বাজারে প্রতি কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১৪০-১৬০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ১২০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৬০ টাকা ও কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল নিউমার্কেটে বাজার করতে এসেছিলেন সরকারি চাকরিজীবী শরীফ ভুইয়া। তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরেই সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। তবে গতকাল দাম আরও বেড়েছে।
'বলতে গেলে বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচ কিনলাম ২৮০ টাকা কেজি, অনেক জায়গায় আবার ৩০০ টাকা। এত দাম দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া কি সম্ভব? বর্ষায় বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়তে পারে। তাই বলে এতটা বাড়বে আর বাজারে কোনো মনিটরিং হবে না, সেটা কীভাবে হয়? বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। কোনটার কত বাড়বে, সেটা দেখার মনে হয় কেউ নেই,' বলেন তিনি।
একই রকম অভিযোগ জানিয়ে নিউমার্কেটে আরেক ক্রেতা মনিরুল বলেন, 'গত কিছুদিন তা-ও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে সবজিগুলো ছিল। আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা। সবজিই যদি এত বেশি দামে কিনে খেতে হয়, তাহলে মাছ, মাংস আর মুরগি কীভাবে কিনব? সেগুলোর তো আরও বেশি দাম।'
সবজির বাড়তি দাম নিয়ে রাজধানীর নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা নাজিমুদ্দিন বলেন, সবজির দাম কমই যাচ্ছিল, কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। অনেক স্থানে কৃষকের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৃষ্টির কারণে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৃষ্টির কারণে ঢাকায় সবজি কম আসছে।
ডিম-মুরগির দাম চড়া
বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ১৩৫ টাকা ছিল। আর দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে ১২০ টাকাতে পাওয়া যেত।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা।
চড়া মাছের দামও
বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হতো কিছুদিন আগেও। সেগুলো এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি হাঁকছেন বিক্রেতারা।
বিক্রেতাদের দাবি, টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মাছের সরবরাহে।
শুধু রুই নয়, একই অবস্থা তেলাপিয়া-পাঙ্গাস থেকে শুরু করে প্রায় সব মাছেরই। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এসব মাছের দাম বেড়েছে।
তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষের চিংড়ির কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজির ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
নিউমার্কেটের মাছ বিক্রেতা মো. আব্দুল হালিম বলেন, টানা বৃষ্টি আর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে মোকাম থেকে আগের মতো মাছ আসছে না। যেসব মাছ আসছে, সেগুলোর পাইকারি দামই অনেক বেড়ে গেছে।
বেড়েছে পেঁয়াজের দাম
কয়েকদিন আগেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এখন বৃষ্টি ও বন্যার জেরে দাম বেড়েছে এক লাফে ২০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খুচরাতে প্রতি কেজি ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একটু মাঝারি মানের বা তুলনায় ছোট আকারের পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা।
