গেল অর্থবছরে রেকর্ড আয়ের পর, ৮০ কোটি টাকায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন চট্টগ্রাম বন্দরে
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড আর্থিক ও পরিচালনগত সাফল্যের পর একটি নতুন ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। বিদায়ী অর্থবছরে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক সেন্টারে বন্দরের প্রধান প্রধান সেবাগুলো এখন এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া এই স্থাপনাটিতে 'ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি' (আইএসপিএস) কোড বা আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১ জুলাই) সার্ভিস সেন্টারটি উদ্বোধনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সময়ে পরিচালনগত নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও – সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর রাজস্ব আয়, জাহাজের আগমন, কনটেইনার পরিবহন এবং কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে রেকর্ড সাফল্য অর্জন করেছে।
চেয়ারম্যান এই অর্জনের কৃতিত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এবং অন্যান্য অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সমন্বিত প্রচেষ্টাকে দিয়ে বলেন, "প্রতিটি প্রধান সূচকেই আমাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি হয়েছে, যা বন্দরের জন্য একটি নতুন মাইলফলক বা বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে।"
সিপিএ'র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায়।
বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর মোট ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে, যা আগের বছরের ৪ হাজার ৭৭টির চেয়ে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান জানান, বন্দরে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় বা ওয়েটিং টাইম 'শূন্য' পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বন্দরে কার্গো পণ্য পড়ে থাকার সময় (ডুয়েল টাইম) কমিয়ে আনা এখনও তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সিপিএ তাদের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করছে, যাতে 'প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং' বা জাহাজ আসার আগেই কাস্টমস নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ শুরু করা যায়। এর ফলে জাহাজ জেটিতে ভেড়ার আগেই কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা সম্ভব হবে, যা কনটেইনার ও কার্গো পণ্য দ্রুত খালাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, বন্দরের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'সিপিএ স্কাই' এখন 'ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো' সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি কাস্টমস এবং কার্গো ছাড়করণের ক্ষেত্রে আরও বড় পরিসরে অটোমেশনের পথ সুগম করেছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা আগামী এক বছরের মধ্যেই উঠে আসবে। এই স্থাপনা থেকে প্রতি মাসে ৫ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
"তাছাড়া আগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ভবনটিকে একটি কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশনে (সিএফএস) রূপান্তর করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত আরও ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব অর্জিত হবে," যোগ করেন তিনি।
