এলডিসি উত্তরণ ২০২৯ সাল পর্যন্ত পেছাতে সংস্কারের খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে সরকার
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়কাল তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ করলেও 'স্বল্পতম' সময়ের জন্য তা পেছানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটির কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। তবে সরকার এখনও আশাবাদী, ২০২৯ সালের নভেম্বর পরর্ন্ত উত্তরণ পেছাতে পারে জাতিসংঘ। সেজন্য তিন বছর মেয়াদি একটি সংস্কার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে জাতিসংঘে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
গতকাল অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২৫ দফা খসড়া কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর এটি জাতিসংঘের সিডিপিতে পাঠানো হবে।
কর্মকর্তারা জানান, গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সংস্কারের এই প্রতিশ্রুতিগুলো ইতিমধ্যেই সিডিপির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংস্কারগুলো ২০২৬ সাল থেকে ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটর করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে প্রতি মাসে একবার করে বৈঠক করবে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে টিবিএসকে বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের কাঠামোসহ সরকারের আনুষ্ঠানিক চিঠি সিডিপিতে পাঠানো হবে।
'অর্থমন্ত্রী সংস্কারের ব্যাপারে খুবই সোচ্চার ও আন্তরিক। তিনি সভায় বলেছেন, এসব রিফর্ম দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অবশ্যই করা উচিত,' বলেন ওই কর্মকর্তা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো সম্প্রতি খবর প্রকাশ করে যে সিডিপি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে সিডিপি মূলত সুনির্দিষ্টভাবে তিন বছর সময় না বাড়িয়ে তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
কী আছে খসড়া সংস্কার প্রতিশ্রুতিতে
'অ্যাকশন প্ল্যান ফর বাংলাদেশেস প্রিপারেশন ফর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন (২০২৬-২০২৯) শিরোনামে তৈরি করা খসড়ায় মূলত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, আর্থিক খাতের সুশাসন, আর্থিক সংস্কার, ব্যবসার নিয়মকানুন সহজীকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের জুন থেকেই কাজ শুরু করবে বাংলাদেশ, তা চলবে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় আনবে সরকার। এছাড়া মৌসুমভেদে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা, নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য নীতি সমন্বয় করা হবে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের 'ডেট সাসটেইনিবিলিটি অ্যাসালাইসিস' রিপোর্টে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেসব ঋণঝূঁকি চিহ্নিত করেছে, তা দূর করতে কাজ করার অঙ্গীকার করবে সরকার।
খসড়া সংস্কার তালিকায় ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে সংস্কারের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকসহ পুরো আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানমূলক কর্তৃত্ব প্রয়োগে জোর দেওয়ার অঙ্গীকারের কথা থাকছে। এছাড়া প্রতি বছর সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের কম্প্রিহেনসিভ রিভিউ করার প্রতিশ্রুতি থাকছে, যার আওতায় সম্পদের গুণমান, ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসি, তারল্য, সুশাসন ও স্ট্রেস টেস্টিং করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সময়মতো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংস্কার কর্মসূচি অনুসারে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও সংসদীয় তদারকি নিশ্চিত করতে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় নেবে সরকার। বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে পারসন-টু-পারসন কনটাক্ট কমাতে ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি সিস্টেম গড়ে তোলা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দেবে।
ব্যবসার নিয়মকানুন সহজীকরণ ও কর সংস্কার
বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ব্যবসার নিয়মকানুন সহজীকরণের বিষয়টিও থাকছে জাতিসংঘের জন্য তৈরি করা কর্মপরিকল্পনায়। এর অংশ হিসেবে সব ধরনের লাইসেন্স, সনদ, অনুমোদন ও নবায়নের জন্য কমন অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হবে ২০২৭ এর জুনের মধ্যে। একই সময়ের মধ্যে লাইসেন্সিং সহজীকরণ করা, সাত দিনের মধ্যে প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি চালু করবে সরকার। আগামী বছরের জুনের মধ্যে সব ধরনের লাইসেন্স ও পারমিটের মেয়াদ বিদ্যমান এক বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর নির্ধারণ।
এছাড়া একই সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো পুরোপুরি চালু করবে সরকার।
রাজস্ব ও কর সংস্কার প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই (ভায়াবল) করা হবে এবং নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করবে সরকার।
বিভিন্ন ধরনের ফি ও করব-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং করজাল বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। এজন্য ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর (সিডিবিএল) ডাটা ইন্টিগ্রেশন নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া কর কর্মকর্তাদের 'ডিসক্রেশনারি' ক্ষমতা কমানো, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও তার কমিশনারেটগুলোকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা, কর অব্যাহতি কমানো ও ভ্যাট কমপ্লায়েন্স জোরদার করবে সরকার।
সংস্কার বাস্তবায়ন মনিটর করতে যৌথ সরকারি-বেসরকারি খাত টাস্কফোর্স গঠনের অঙ্গীকারও থাকছে সরকারের।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো
রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, আইসিটি, এগ্রো-প্রসেসিং, পাট ও হালকা প্রকৌশল খাতকে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দেবে সরকার।
২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্যানারি শিল্পের জন্য সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট উন্নয়ন ও অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) পার্ক চালু করা হবে।
লজিসটিকস ব্যয় ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনতে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়ন করবে সরকার। এছাড়া কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা, মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি গড়ে তোলা, ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড লজিস্টিকস করিডের ও হাব উন্নয়ন করতে চায় সরকার।
জ্বালানি খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে প্রণোদনা দেওয়ার অঙ্গীকার করবে সরকার। এছাড়া কার্বন মার্কেট পলিসি প্রণয়ণ ও গ্রিন ফাইন্যান্সিং বাড়ানো হবে।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার জন্য বিদ্যমান শর্ত পূরণ করবে সরকার। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে কোরিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরবে আমিরাত, হংকং ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করা হতে পারে। পাশাপাশি ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কোরিয়া, চীন ও আঞ্চলিক বাজারগুলোতে রপ্তানি জোরদার করতে রপ্তানিকারকদের সহযোগিতা করা হবে।
বিদ্যমান স্মুদ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি পর্যালোচনা করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে বর্তমান বাস্তবতায় তা সংশোধন করা হবে এবং প্রতি মাসে বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে সরকার।
এরপর কী?
কর্মকর্তারা জানান, নিয়মানুযায়ী সিডিপির সুপারিশ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) পাঠানো হয়। ২২ ও ২৩ জুলাই ইকোসকের সভায় বাংলাদেশের উত্তরণ পেছানোর সুপারিশ রেজ্যুলেশনভুক্ত করে তা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের জন্য পাঠানো হবে।
সময়স্বল্পতার কারণে যদি ইকোসক সিডিপির সুপারিশ রেজ্যুলেশনভূক্ত করতে না পারে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উত্তরণ পেছানোর প্রস্তাব সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভোটাভুটির জন্য নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইকোসকের কাছ থেকে ইতিবাচক সুপারিশসহ বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত হলে তা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পেছানোর জন্য সহজতর হবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য যে তিনটি মানদণ্ড রয়েছে, বাংলাদেশ তা বেশ ভালোভাবেই অর্জন করেছে। তা সত্বেও সরকার যেহেতু আরও প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে উত্তরণ পেছানোর অনুরোধ করেছে, তাই বাংলাদেশের সম্মানার্থে সিডিপি স্বল্পতর সময় বৃদ্ধির পক্ষে সুপারিশ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি করলেই হবে না, কোন কোন সংস্কারের সঙ্গে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবি সম্পৃক্ত রয়েছে, তা-ও লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।
সব ধরনের মানদণ্ড পূরণ করার পরও বাংলাদেশের উত্তরণ পেছানোর পক্ষে সিডিপির সুপারিশকে 'পলিটিক্যাল মার্সি' বলে উল্লেখ করেছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের পক্ষে এই সুপারিশ অন্য এলডিসির উত্তরণ পেছানোর আবেদনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
চলতি বছর বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও লাওসেরও এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেপালও ইতিমধ্যে উত্তরণ পেছাতে সিডিপিতে চিঠি দিয়েছে।
গত ৬ এপ্রিলে সিডিপিতে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরণ তিন বছর পেছানোর জন্য চিঠি দেন, তার পরপরই সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশের বিষয়ে এ সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়।
তবে তখনও বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে সংস্থাটির অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট প্রস্তুত ছিল না। তাই ইকোসকের কাছে পাঠানো সিডিপির রেজল্যুশনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত সিডিপির প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করা হয়নি। এখন তা আলাদাভাবে ইকোসকে পাঠানো হবে।
সিডিপির সুপারিশ অনুযায়ী, ইকোসক ১ বছর, দুই বছর বা বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী তিন বছর পেছানোর বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভোটাভুটিতে।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো এবং সিডিপির সদস্য দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, এই সময়সীমা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ব্যতিক্রমী সুযোগ।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের জন্য এটি ব্যতিক্রমী সুযোগ। এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততার সঙ্গে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও মনিটরিংযোগ্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানানো বাঞ্ছনীয়। এটা ইকোসক ও জাতিসঘের সাধারণ অধিবেশনে বিবেচনার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।'
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণকে শুধু আর্থ-সামাজিক অগ্রাধিকার হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখা উচিত। ভবিষ্যত বাংলাদেশের রূপরেখা এর মধ্যে নিহিত আছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণের জন্য বাংলাদেশকে রাজস্ব, ব্যাংকিং ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে—এই শর্তেই সিডিপি সময় বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
তিনি বলেন, 'উত্তরণ পেছানোর পক্ষে যেসব প্রতিকূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরও বাংলাদেশ উত্তরণের সব শর্ত বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই পূরণ করে।'
জাহিদ হোসেনের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাঘাত এবং দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ স্মুদ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। এই সুপারিশে মূলত সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি বলেন, 'দুটি বিষয় এখানে পরিষ্কার। প্রথমত, পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে পার হতে পারলে এটিই হবে শেষবারের মতো সময় বৃদ্ধি। দ্বিতীয়ত, এই বর্ধিত সময়সীমা তিন বছরের কম হবে।'
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না হলেও সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
