ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ৭ দিন পরে বাংলাদেশি পণ্যে সংশোধিত মার্কিন শুল্ক কার্যকর হবে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা অনুযায়ী, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে সইয়ের সাত দিন পর থেকে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে। এই সময় গণনায় আদেশ সইয়ের দিনটি অন্তর্ভুক্ত নয়।
শুল্ক কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় হলো পূর্বাঞ্চলীয় সময় অঞ্চল (ইটি) অনুযায়ী রাত ১২টা ০১ মিনিট, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টা ০১ মিনিট থেকে।
হোয়াইট হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশোধিত শুল্ক সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেগুলো নির্বাহী আদেশে সইয়ের সাত দিন পর [আদেশে সইয়ের দিন ব্যতীত] রাত ১২টা ১ মিনিট [পূর্বাঞ্চলীয় সময় অঞ্চল] বা এই সময়ের পর আমদানি কিংবা গুদাম থেকে ছাড় করা হয়েছে।
তবে যেসব পণ্য ইতোমধ্যেই পথে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকবে।
পূর্বাঞ্চলীয় সময় অঞ্চল অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাত ১২টা ০১ মিনিটের মধ্যে পণ্য যদি জাহাজে লোড হয়ে ট্রানজিটে থাকে এবং ৫ অক্টোবরের মধ্যে তা গুদাম থেকে ছাড় করা হয়, সেসব পণ্য নতুন শুল্ক হার থেকে অব্যাহতি পাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৩১ জুলাই [ওয়াশিংটন ডিসি সময়] হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশের জন্য পূর্বঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়েছে, অর্থাৎ ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।
বাংলাদেশি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর এই শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতির উদ্বেগ তুলে ধরে বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। সেই সময় বাংলাদেশ ৩৭ শতাংশ শুল্কের আওতায় ছিল।
পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল মার্কিন সরকার তিন মাসের জন্য এসব শুল্ক স্থগিত করে, যাতে দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারে।
এই তিন মাসের সময়সীমা শেষ হয় গত ৯ জুলাই।
এর আগের দিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বাংলাদেশের ওপর শুল্ক হার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক কার্যকর করেনি ওয়াশিংটন। বিভিন্ন দেশকে শুল্কের হার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
সেই হিসেবে আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার। বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয় দেশটিতে।
বিপরীতে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে।
