ফখরুল-আব্বাসের জামিন নামঞ্জুর, আজ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির
৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ ২২৪ বিএনপি নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে এক কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফিউদ্দিন জামিনের আবেদন নাকচ করার পর বিএনপির আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, মামলার জবানবন্দিতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের নাম ছিল না এবং এর ভিত্তিতেই তাদের জামিন চাওয়া হয়েছে।
মাসুদ বলেন, "তারা দুজনেই বয়সজনিত জটিলতায় ভুগছেন; তাদের সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হয়।"
"আমরা আদালতকে বলেছি, এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে; এখন দলের কিছু নেতাকে জামিন দিলে তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ এটি একটি রাজনৈতিক মামলা," যোগ করেন বিএনপির আইনজীবী।
এদিকে, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু টিবিএসকে বলেন, ফখরুল ও আব্বাসসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা আন্দোলনের নামে হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন, পাশাপাশি পুলিশের কাজেও বাধা দিয়েছিলেন তারা।
"এই মামলায় আসামিরা জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে এবং তাদের চলমান আন্দোলনের নামে আরও জান-মালের ক্ষতি হবে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জামিনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে," বলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।
তিনি জানান, উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যবেক্ষণ শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষে রায় দেন।
মামলায় বিএনপির প্রতিনিধিত্বকারী আরেক আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ টিবিএসকে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য জড়ো হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ হামলা চালিয়ে এক কর্মীকে হত্যা করে এবং সেই হামলায় আহত হন আরও অনেকে।
শুনানিতে তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়েছিল, যেখানে আটক এই নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তবে শুক্রবার ঢাকার একটি আদালত এই মামলায় মির্জা ফখরুল ও আব্বাসকে জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠান।
শুক্রবার ভোরে রাজধানীর বাসা থেকে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
পরে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট তিনটি মামলা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এবং জনসাধারণের সম্পত্তি ও জানমালের ক্ষতি করার জন্য প্ররোচনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের আগে দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতা নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হন।
বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর মারপিটের দুই মামলায় এ্যানি ও সালামসহ ৪৪৫ বিএনপি নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
'পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর-লুটপাট চালিয়েছে'
সোমবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, "সরকার আমাদের সকল দলীয় সমাবেশে বাধা দিয়েছে এবং সর্বশেষ বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল একেবারেই নজিরবিহীন। ৭ ডিসেম্বরের ঘটনায় এটিই প্রমাণ করে যে, সরকার জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।"
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য দাবি করেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও হিসাব শাখায় লুটপাট করেছে।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ধরনের হামলা সারাদেশে ও বিশ্বে নজিরবিহীন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এমন ঘটনা আমরা দেখিনি।"
তিনি বলেন, "আমাদের অফিসের দরজা ভাঙা হয়েছে; চেয়ারপারসনের অফিস, যা সাধারণত তালাবদ্ধ থাকে সেখানেও ভাংচুর চালানো হয়েছে। দেওয়ালে থাকা সমস্ত ছবি এবং জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল বিকৃত করা হয়েছে।
ঢাকায় দলের বিভাগীয় সমাবেশের মাত্র তিন দিন আগে বুধবারের সংঘর্ষের পর অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ এবং সব ফাইল নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।
ওইদিন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হন। সংঘর্ষের পরপরই বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।
সংঘর্ষের দিন থেকে গত রোববার পর্যন্ত বিএনপির কার্যালয় বন্ধ ছিল।
সোমবার কার্যালয় পরিদর্শনের সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা।
