‘থার্ড থাম’: এই বাড়তি রোবটিক আঙুল বাড়িয়ে দেবে হাতের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা!
অনেকসময়ই হাতভর্তি বাগ নিয়ে আমরা বিপাকে পড়ে যাই। তখন মনে হয়, হাতে আরও কয়েকটা বাড়তি আঙুল বা আস্ত একটা বাড়তি হাত থাকলে মন্দ হতো না। সুখবর হচ্ছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় রোবটিক অতিরিক্ত আঙুল (এক্সট্রা থাম) তৈরি করেছে। উদ্দেশ্য, হাতের কর্মক্ষমতা বাড়ানো।
আঙুলের নড়াচড়ার পরিধি এবং যেকোনো জিনিস ধরার ও বহন করার সক্ষমতা বাড়িয়ে এ কাজ করবে এই বাড়তি আঙুল। ধরুন, হাতে মোবাইল ফোন ধরে রেখেছেন, তখনই বাড়তি ওই আঙুলে ঝুলছে আপনার ব্যাগ। রোবটিক আঙুলটি তখন কাজ করবে হুকের মতো।
'থার্ড থাম' হাতের তালুর সঙ্গে বাঁধা থাকবে। এটি থাকবে আমাদের বুড়ো আঙুলের বিপরীত পাশে। এই অতিরিক্ত আঙুল দুই ডিগ্রি নড়াচড়া করতে পারবে।
আর রোবটিক এই আঙুল চলবে কব্জিতে পরা মোটরের শক্তিতে। এর নড়াচড়া ও গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন ব্যবহারকারীই। গতি নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার হবে একটি প্রেশার সেন্সর, যা থাকবে দুই পায়ের বুড়ো আঙুলে। এক পায়ের বুড়ো আঙুলের সৃষ্ট চাপের মাধ্যমে এই ছয় নম্বর আঙুলটি ডানে-বাঁয়ে নড়াচড়া করবে, আরেক পায়ের বুড়ো আঙুলের চাপে এটি বাকি আঙুলগুলোর দিকে নড়াচড়া করতে পারবে। এই বাড়তি আঙুল তৈরি করা হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে।
শুনতে একটু জটিল লাগলেও গবেষকরা বলছেন, পরিধানযোগ্য এই আঙুল আশ্চর্যরকমের দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং এর ব্যবহারও খুব সহজ।
সায়েন্স রোবটিকস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে গবেষকরা এ ডিভাইসের ব্যবহারোপযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। শিশু থেকে ৯০ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তিদের এ আঙুল পরিয়ে পরখ করে দেখা হয়েছে। এরকম ৫৯৬ জন ব্যক্তিকে তারা থার্ড থাম পরতে দিয়েছেন। দেখা গেছে, প্রায় সবাই—১০০ জনের মধ্যে ৯৮ জন—আঙুলটি পরতে, এটি চালাতে এবং এটি দিয়ে কাজ করতে পেরেছে।
আঙুলটি কয়েক ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি।
আঙুলটির প্রস্তুতকারক ব্রিটিশ প্রোডাক্ট ডিজাইনার ড্যানি ক্লড আশা করছেন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা হাত ভেঙে যাওয়া বা অসাড় হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের উপকারে আসবে থার্ড থাম।
একাধিক ডিভাইস নিয়ে কাজ করতে হয়, এমন কর্মীদের জন্যও এই রোবটিক আঙুল খুব কাজের হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যেমন, সার্জন, দাঁতের চিকিৎসক, শ্রমিকদের জন্য বাড়তি আঙুল কাজে আসবে।
লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অভ আর্ট-এ স্নাতকোত্তর পড়ার সময় এ আঙুলের প্রোটোটাইপ তৈরি করেন ক্লদ। এরপর আরও কয়েকজন গবেষকের সঙ্গে এটি নিয়ে গবেষণাগারে কাজ শুরু করেন।
২০২২ সালে রয়্যাল সোসাইটি সামার সায়েন্স এক্সিবিশন-এ আসা দর্শনার্থীদেরকে থার্ড থাম পরিয়ে এ ডিভাইসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে গবেষণা দল।
ক্লড জানান, এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরা ছয় নম্বর আঙুলের ব্যাপারে দারুণ আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিছু অংশগ্রহণকারী তো আঙুলটি হাত থেকে খুলেই রাখতে চাইছিলেন না।
ক্লড আশা করছেন, থার্ড থাম একই সঙ্গে খুব কাজের এবং দারুণ উপভোগ্য 'হাতিয়ার' হবে।
