রাশিয়াকে ভয় পায় জাতিসংঘ: ইউক্রেনে হামলায় ইরানি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনে হামলায় রাশিয়া ইরানের মিসাইল ব্যবহার করছে দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব 'রুশ হুমকির কাছে নতি স্বীকার' করেছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। খবর এবিসি নিউজের।
২০১৫ সালে ইরান ও ছয় শক্তিধর দেশের মধ্যে হওয়া পরমাণু চুক্তিকে ২২৩১ নামে একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। রাশিয়ায় ইরানের ড্রোন সরবরাহ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে এক প্রতিবেদনে জানায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। তবে ইরান বরাবরই অস্ত্র চালানের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
সোমবার পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইউক্রেনে মিসাইল ব্যবহার নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৫ সালের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইরান রাশিয়ার কাছে ড্রোন হস্তান্তর করেছে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, ২০২০ সালের অক্টোবরে ইরান থেকে অস্ত্র চালান লেনদেনের ওপর সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়। আর তাই অস্ত্র লেনদেনের জন্য পশ্চিমাদের অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ায় ড্রোন চালান পাঠানোর বিষয়টিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইরাভানির মতে, ইচ্ছাকৃতভাবেই এই প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে যাতে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জার ভূমিকা থেকে দৃষ্টি সরানো যায়।
জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া ইউক্রেনে হামলার জন্য ইরানের ড্রোন পাঠানোকে 'সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা' বলে মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উড বলেন, 'ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলায় রাশিয়ার ইরানি ড্রোন ব্যবহারের যথেষ্ট প্রমাণ আছে। গত ৫ নিভেম্বর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিসহ একাধিক উন্মুক্ত উৎস থেকেই এসব প্রমাণ মিলবে।'
২০১৫ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের পূর্বানুমতি ছাড়া ইরানের এধরনের ড্রোন স্থানান্তরের অনুমতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাত বছর ধরে জাতিসংঘে এই প্রস্তাব লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যান্ডেট থাকলেও জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত তদন্ত শুরু না করায় হতাশা প্রকাশ করেন উড। বিষয়টিকে তিনি রাশিয়ার হুমকির কাছে জাতিসংঘের নতিস্বীকার বলেও মন্তব্য করেন।
ইউক্রেনে ইরানের তৈরি ড্রোনের তদন্ত শুরু না হওয়া নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে গুতেরেস সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমরা সবকিছু খতিয়ে ও আরও বিষদভাবে দেখছি। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই তদন্ত পরিচালনা করা উচিত কি না বা করলে কখন সেসব নির্ণয় করা হচ্ছে'।
